১ রাত ওয়াজে ৬০ হাজার টাকা চুক্তি!
২০ হাজার অগ্রিম! স্টেইজে উঠার আগে বাকি ৪০ হাজার পরিশোধ করতে হবে!!!
২০ হাজার অগ্রিম! স্টেইজে উঠার আগে বাকি ৪০ হাজার পরিশোধ করতে হবে!!!
জামালপুর থেকে আগত রামগঞ্জ এলাকায় এক মহান বক্তা কে দাওয়াত করেছেন এলাকার যুব সমাজ। ঢাকা থেকে রামগঞ্জ একটা প্রাইভেট কার ভাড়া সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ৫৫ হাজার টাকা এক ঘন্টা লেকচারের দাম। আমি নিশ্চিতভাবে জানি সে বক্তার নিজস্ব গাড়ি আছে।
একই এলাকায় আরেক বক্তা আসলেন কদিন আগে। বাজেট ৪০ হাজার টাকা। তবুও পৌনে 1 ঘণ্টা কমেডি করে রাত এগারোটার মধ্যে মাহফিলের বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ি হাঁকালেন বারোটা থেকে আরেক মাহফিলের চুক্তি রক্ষার্তে।
অর্থাৎ এক রাত্রে ৭০ হাজার টাকা হাঁকালেন অন্যদেরকে বাদি দিলাম, কওমি ঘটনার মধ্যেও এই মহা জাতকদের অভাব নেই এখন। হাদিসের ইবারত পড়ে দাঁত ভাঙ্গার ময়দান তো এটা নয়। অন্ধ পাবলিক চেঁচিয়ে তাকবীর ধ্বনি তুলতে পারলেই কেল্লা ফতে। একবার জেল থেকে ঘুরে আসতে পারলে তো কথাই নেই ফেমাস কাহাকে বলে। সেই কাহিনী ঘুরে ফিরে আসতে কয়েক বছর আযান গজল কমেডি কন্ঠ পুঁজি করে অধিকাংশ নূরানী মহাপরিচালক এ বক্তাগণ দেশ-বিদেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আমার মত চামচিকা সূর্যলোকে তাদেরকে দেখতে না পেলেও তাদের কিছু আসে যায় না আবার বলি তাদের কি দোষ? আমার এলাকায় জোরপূর্বক তো আসেনি তারা!! জাতির সৌভাগ্য যে তারা জাহান্নামের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের এই দমকল বাহিনীকে উচ্চ বাজেটে হলেও হাতে নাগাল পেয়েছে। বয়ানের শুরুতে উম্মতের দরদে বহুকষ্টে মাহফিলে তাদের হাজিরা দেওয়ার কাহিনী শুনে হাড়ে হাড়ে অনুভব করি যাতির এই কান্ডারীদের কত প্রয়োজন আমাদের।
কিন্তু আমার টেনশন হল মফস্বলের সাদাসিধা গরীব লোকদের নিয়ে উচ্চ মূল্যে এই বাহিনীর নাগাল তারা পাবে না, পরকালে তাদের আগুন নিভাবে কারা। ইনারা আবার হকপন্থী নামিদামি পীরের খলিফা আত্মশুদ্ধি মূলক তথা ইসলাহী মাহফিলের পোস্টার তাদের নামগুলো লম্বা ডেজিগন্যাশনসহ লেখা দেখে মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলি। যে মসজিদ কমিটি মাস শেষে নিজের মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনের নামমাত্র বেতন টুকু দিতে পারেনা। শত কষ্ট আল্লাহর জন্য মুখ বুজে সহ্য করে অকাতরে এই দ্বীনি খেদমত করে যাচ্ছেন তারা।
কিন্তু পাবলিক মাতানো এসব কমেডিয়ান বক্তাদের কে ঘন্টায় অর্ধলক্ষ টাকা দিতে কমিটির গায়ের পশমও বাতাস নড়েনা। ঠিক একই চিত্র ম্যাক্সিমাম কওমি মাদরাসাগুলোর। মুহতামিম সাহেবগণ দক্ষ অভিজ্ঞ মুহাদ্দিসগনের যত্সামান্য বেতন পরিশোধের পরিবর্তে শিক্ষক মিটিংয়ে আকাবিরদের কষ্টকর এলেম সাধনার স্মৃতিচারণ করে তাসাল্লি দিয়ে থাকেন
স্ত্রী সন্তান মা বাবা নিয়ে তাদের কষ্টের দিনযাপনের কথা শুনলে চোখে পানি এসে যায়। অথচ সেই মাদ্রাসার মাহফিলে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয় শুধু বক্তা বিদায় করতে। তাও কম দিয়েছেন বলে বিদায় কালে ক্ষমা চেয়ে নেন বক্তারা কাছ থেকে। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে কোন আলেমেদ্বীন হালাল ব্যবসা শুরু করলে দুনিয়াদার হয়ে যাওয়ার তকমাটা কিন্তু তার ফ্রিতে মিলে যায়।
আফসোস শত আফসোস!
এই হুজুগে বাঙ্গালী জাতির শুভবুদ্ধির উদয় হবে কবে? আমি জানি আমার এই তিক্ত সত্য কথা গুলো হজম হবে না সকলের। বাক-স্বাধীনতার এই যুগে কারো ভিন্নমত থাকলে ক্ষোভ উদগীরণ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন ইচ্ছামত। আমি এটুকু রাগ করবো না ইনশাআল্লাহ পরমতসহিষ্ণুতার অভ্যাস গড়ার চেষ্টা করছি আজকাল। যদিও বিরহবারী ঝরছে অঝোর হৃদয় নয়ন জুড়ে।
এই হুজুগে বাঙ্গালী জাতির শুভবুদ্ধির উদয় হবে কবে? আমি জানি আমার এই তিক্ত সত্য কথা গুলো হজম হবে না সকলের। বাক-স্বাধীনতার এই যুগে কারো ভিন্নমত থাকলে ক্ষোভ উদগীরণ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন ইচ্ছামত। আমি এটুকু রাগ করবো না ইনশাআল্লাহ পরমতসহিষ্ণুতার অভ্যাস গড়ার চেষ্টা করছি আজকাল। যদিও বিরহবারী ঝরছে অঝোর হৃদয় নয়ন জুড়ে।
সংগৃহীতঃ মোরশেদ পাটোয়ারী মাসুম'-এর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে।

0 Comments