Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মৃত্যু নিশ্চিত - শায়েখ ওমর সুলেইমান

আমি শায়েক মাজেদের আলোচনা শুনেছিলাম। বিশেষ করে শেষের দিকে যখন তিনি আমাদেরকে বারবার মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রতি জোর দিচ্ছিলেন। নিজেকে মৃত্যুর কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়া আসলে এতটা অনআকর্ষণীয় নয় শুনতে যতটা মনে হয়।
দুইভাবে এই দিকটার প্রতি মনোযোগ দেয়া যায় একভাবে হল মৃত্যু নিশ্চিত অতএব এই পৃথিবীতে আমার হাতে যতটুকু সময় তার সুযোগ নেয়া আমার ঠিক হবে না। অথবা অন্যভাবে- মৃত্যু যে কোন সময় আসতে পারে তাই আমার নিশ্চিত হওয়া উচিত যে, আমি আমার আখেরাতের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছি। এবং যখন আমি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সাথে সাক্ষাত করব তখন যেন বলতে পারি আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব ভালো কাজ করেছি। আর এর মানে হলো নিজের প্রচেষ্টার সবটুকু দিয়ে জীবন পরিচালনা করা। তাই আপনি হয় পৃথিবী সম্পর্কে পুরোপুরি নিরাশ হয়ে যেতে পারেন, অথবা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হতে পারেন।
এই উপলব্ধির ফলশ্রুতিতে সে মৃত্যু সব সময় আমাদের সামনে অপেক্ষমান আছে, আর এই বিষয়কে আজকে আমি একটি হাদিস নিয়ে আলোচনা করব। আজ আমি শুধু একটি হাদিস নিয়ে কথা বলব আর এই হাদীসটি আপনাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসাধারণ প্রতিভার তারিফ করতে সাহায্য করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামান্য কিছু শব্দ দিয়ে এমন বার্তা বহন করতে পারতেন যা কয়েকটি বই দিও সম্ভব হতো না। অনেক সময় দেখা যায় রাসুল (সাঃ) এর উপদেশ গুলো আসলে অনেকটা ব্যক্তিগত উপদেশ। আমি আসলেই এই দৃষ্টি উপলব্ধি করার জন্য কিছু সময় ব্যয় করবো। আল্লাহর রাসূলের কতগুলো হাদিস তার বক্তৃতা-বিবৃতি থেকে নেয়া হয়েছে, আর কতগুলো হাদিস তার সাহাবীদেরকে দেওয়া ব্যক্তিগত উপদেশ এর অন্তর্গত? (অসংখ্য হাদিস তাঁর সাহাবীদের দেওয়া ব্যক্তিগত উপদেশের অন্তর্গত) শুধু যে পদ্ধতিতে তিনি তার বার্তাটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন সমাজের সাথে তার যোগাযোগের ধরনটি কেমন ছিল।

হাদীসগুলো পড়লে আমরা এমন রাসূলকে দেখি না তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তিনি মেম্বার থেকে নেমে এসে তাঁর সাহাবীদের সাথে একত্রে বসে তাদের ব্যক্তিগত বিষয় গুলোর সমাধান দিতেন। এবং প্রত্যেককে তার ব্যক্তিত্বের আলোকে উপদেশ দিতেন আপনি যদি গভীর মনোযোগ দিয়ে ওই সাহাবীর জীবনী অধ্যায়ন করেন তাহলে বুঝতে পারবেন কেন রাসুল সেই সাহাবীকে নির্দিষ্ট উপদেশ দিয়েছিলেন। আর এর থেকে আমরা সবাই উপকৃত হতে পারি।
বিখ্যাত সেই উপদেশগুলোর একটি হল - রাসূল (স) এর চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস (রা) এর সাথে তাঁর একটি কথোপকথন। রাসূল (স) এর ইন্তেকালের সময় ইবনে আব্বাসের বয়স ছিল মাত্র তের বছর। এখন, আপনি যদি চিন্তা করেন একজন ১০/১১ বা ১২ বছর বয়সের ছেলের সাথে আলোচনার ধরণটি কেমন হবে, তাহলে হাদীসটি উপলব্ধি করা আরো সহজ হবে। আর রাসূল (স) ইবনে আব্বাসের সাথে এমনই একটি আলোচনা করেন।
তিনি রাসূল (স) এর সাথে একটি উটের পিঠে আরোহন করে কোথাও যাচ্ছিলেন। রাসূল (স) তার দিকে ফিরলেন এবং তার কাঁধে হাত রেখে বললেন -  ও কিশোর ছেলে! তোমাকে কিছু উপদেশ দিতে চাই। তোমাকে এমন কিছু বাক্য শেখাতে চাই, যা তুমি সারা জীবন ধরে তোমার সাথে রাখতে পারবে।
"তুমি আল্লাহর (বিধানসমূহের) রক্ষণাবেক্ষণ কর (তাহলে) আল্লাহও তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহর (অধিকারসমূহ) স্মরণ রাখো, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে। যখন তুমি চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। আর এ কথা জেনে রাখ যে, যদি সমগ্র উম্মত তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ (তাকদীরের লিপি) শুকিয়ে গেছে।
আপনারা যদি ইবনে আব্বাস (রা) এর জীবনী অধ্যয়ন করেন তাহলে দেখবেন তাঁর সামনের জীবনের জন্য এই উপদেশটি দারুণ প্রযোজ্য ছিল। আর উপদেশটি প্রজ্ঞা এবং গভীর জ্ঞানে পরিপূর্ণ হওয়ার দরুণ ইমাম নববী তাঁর ''চল্লিশ হাদিস'' গ্রন্থে এটি অন্তর্ভুক্ত করে নেন। ফলে এটি আমাদের মুসলমানদের ঈমানের জন্য মৌলিক একটি হাদিস হিসেব খ্যাতি লাভ করে। এই হাদিসটি আমাদের শিক্ষা দেয় কিভাবে আমরা সৃষ্টিকর্তার আদেশ নিষেধের প্রতি ফোকাস রাখবো এবং সাথে সাথে এই কথাও মনে রাখবো যে তিনিই আমাদের তকদীর এবং ভাগ্যনির্দেশের নিয়ন্ত্রক। অতএব, আমাদের সকল কাজ হওয়া উচিত শুধু তাঁর সন্তুষ্টির জন্য। আর এভাবে আমাদের কাজের সরাসরি প্রভাব পড়বে আমাদের তকদীর কিভাবে প্রকাশিত হবে উপর।

Post a Comment

0 Comments